সামান্য হিন্দি-বিরোধের সকারাত্মক পক্ষ : কিঞ্চিত নীতিগত পরামর্শ যাহা এক উত্তম ভবিষ্যতের ইঙ্গিতকের রূপে কাজ করিতে পারে

সৃজন সাধুখাঁ (হিন্দুস্তানি থেকে বঙ্গানুবাদ - লেখক স্বয়ং)

আমি এতে ধন্যবাদ-জ্ঞাপন একজন মলয়ালী কলম-মিত্র কে করতে চাই, যার সাথে পরস্পর ত্রনেকঙলো চচার করতে করতে উত্তর দক্ষিণের -ভাষাঙলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পকর্ সমসাময়িক তভাদেশীয় এবং বিদেশী প্রভাবওলোর এবং আধলিক এভাভঙলোর ওপর পাওয়ার সুযোগ পেলাম।

হিন্দি ভাষা সমস্ত উপমহাদেশে কোনও না-কোনও কারণে চর্চিত, সেটা বা সকারাত্মকভাবেই হোক বা, সেই নকারাত্মক। কিন্তু তার চর্চা তো আছে, আর চলতেই থাকবে।

চলুন নকারাত্মক দিকটা দেখা যাক, হিন্দির বিরোধের এই দিকটা রাজনৈতিক মাত্র। উত্তরবিদ্বেশিতার ভাবনা.এতে সমাহিত। বিধর্মী প্রকৃতিও একটি কারণ ('বিধ্মী'র প্রসঙ্গ এখানে ধার্মিক ও. এ্তিহাসিক)। ব্রাহ্মণবিদ্বেশিতাও এর আরেক কারণ

হিন্দির_ বিরোধ জায়ে কিনা সেটা তো আমরা কিছুক্ষণ পরে এটার চর্চা করবো। আমাদের জন্য. যা গুরুত্বপূর্ণ সেটা এই যে এর বিরোধ কেমন ধরণের হওয়া উচিত, বিরোধের স্বরূপ কেমন হওয়া উচিত বিরোধে নিহিত চিন্তাধারা কেমন হওয়া উচিত। যেখানে ভাষীয় রাজনীতিকরণের প্রসঙ্গ উঠে আসে নিঃসন্দেহে এটা নাজায়ে2। আত্মদাহের পাগলামোর মানসিকতা কাপুরুষতার পরিচায়ক নাকি বলিদানের (দয়া করে এটার সাথে সতীদাহের অথবা জৌহরের মিল খুঁজতে যাবেন না, যদিও এদের গুরুত্ব

আজকের দিনে ক্রমশ কমে যাচ্ছে বা কমে গেছে)। আমি এর বিষয়ে কিছু দৃষ্টিকোণ একটি অন্য লেখায় যৌক্তিক ভাবে করবো

(আমি এখানে ‘হিন্দি’ বলতে হিন্দি উর্দু দুটোকেই সম্মিলিত করছি যাতে ব্যাপারগুলোয় স্পষ্টতা আসে, প্রসঙ্গভেদে আলাদা করে ‘প্রমিত হিন্দি’ ‘উর্দু’ পদগুলোর প্রয়োগ করা হবে।) হিন্দি ভাষা নিঃসন্দেহে একটা উপমহাদেশ-ব্যাগী ভাষা যার প্রসার সরকারি কার্যকলাপ, মনোরঞ্জন, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটি সম্পর্ক ভাষার, রূপে হয়ে চলে এসছে। দেশে-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা লক্ষণীয় আমাদের দক্ষিণবাসী সাধারণ জনগণ ভাইবোনেরাও সাধারণত এর প্রতি সহিষ্ণু

যাহাঁতক ব্যবহারিক প্রয়োগের কথা আসে, এমন নয় যে সবাই দ্বিভাষী, কিন্তু এটাও সত্য যে চেষ্টা করলে কোথাও না কোথাও অন্তত (না বললেও) হিন্দি বোঝার কয়েকজন পেয়ে যাবেন। একটি ভাষা তখন সম্পর্ক-ভাষার রূপ-এক্তিয়ার করে যখন লোকেরা ভাঙা- চোরা স্বরূপে হলেও যথাসম্ভব অন্যভাষী সমাজ(গুলো) পর্যন্ত নিজের কথা সম্ভাষিত করাতে কাজে লাগায়। আর. একে কিঞ্চিত সীমা পর্যন্ত অথবা মূলরূপে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেদের মধ্যে শোনা, বলা ও. বোঝা যায়। এর তাৎপর্য এই নয় যে সম্পর্ক ভাষা জানার লোকেরা হামেশাই একাডেমীয় স্তরে পরা-লেখায় সক্ষম। এর অনেক কারণ বিদ্যমান, যেমন, উচ্চারণ ভেদ, বানান ভেদ, ব্যাকরণ ভেদ ইত্যাদি।

কিছু কট্টর আঞ্চলিক(তাবাদী) লোকেরা এই কারণে চায় যে হিন্দি কে না ‘চাপানো’ হয়, কিছু লোকেরা চায় যে-“হিন্দি'কেই সমাপ্ত করে দেওয়া হোক, আস্তে আস্তে লোকেরা আরও বেশি হিন্দির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে যাচ্ছেন। এমন সময়ে একটি ভুল ধারণা জন্মায় যে হিন্দি কেন না একটি বিশিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভাষা তাই একে ভাষীয় সাম্রাজ্য বলে বোঝানো হচ্ছে, যদিও উত্তর ভারতে আমাদের অনুভব এরচেয়ে ভিন্ন। ধরা যাক যে কিছু এলাকার সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দি কে গৃহীত করা হয়েছে, কিন্তু ‘হিন্দি পট্টি” কিছু অঞ্চলের নিজস্ব বৈচিত্র্য আছে। আরও, আঞ্চলিক স্তরে আলাদা আলাদা ভাষাগুলোর সম্মান দিনে

দিনে বাড়ানো হচ্ছে। কিছু “হিন্দি প্রদেশে’ এগুলো পড়ানোও হচ্ছে। কোথাও কোথাও এদেরকে সরকারি ভাষার মর্ধাদাও প্রদান করা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা দক্ষিণের একমাত্র পূর্ণ রাজ্য যেখানে একাধিক সরকারমান্য রাজভাষা আছে। এর বিপরিতে ‘হিন্দি প্রদেশে’ ছত্রিশগড়ে হিন্দি ছত্রিশগড়ি রাজভাষা হিসেবে স্বীকৃত। ঝাড়খণ্ড ১৭টি ভাশাকে রাজভাষা হিসেবে স্বীকৃত করলো, শুধুই “হিন্দি প্রদেশগুলোর' মধ্যেই নয়, বরং সমস্ত ভারতবর্ষে সর্বাধিক উর্দু, বাংলা, সাঁওতালি, মুন্ডারি, হো, খড়িয়া, কুড়ুখ/ওরাঁও, কুড়মালি, খোরঠা, নাগপুরি/সাদরি, পঞ্চপরগনিয়া, উড়িয়া, মগধী, মৈথিলী, ভোজপুরি, অঙ্গিকা)। “অহিন্দি প্রদেশগুলোর" মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র এমন রাজ্য যেখানে অন্যান্য ভাষাগুলোকে অঞ্চলবিশেষে সরকারি ভাষাও বানালো তার সাথে সাথে সরকারি ভাষাগুলোর সঙ্ধ্যায় বৃদ্ধিও ঘটালো এটাও বলে রাখি যে পশ্চিমবঙ্গে প্রমিত হিন্দি একটি সরকারি ভাষা, শুধু এটাও না, প্রশ্চিমবঈ-ভারতবর্ষের সর্বাধিক গর-স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষাদেরকে মান্যতা দেওয়ানো. ওয়ালা রাজ্য (নেপালি, উর্দু হিন্দি, ওড়িয়া, সাঁওতালি, পাঞ্জাবি কামতাপুরী-রাজবংশী), কুড়মালি)। ভাইসাব স্থিতি এরকম হয়ে পড়েছে যে লোকেরা মাতৃভাষা ছেড়ে হিন্দি কে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও আবার হিন্দিও উপেক্ষিত ভাষা যেন স্ট্যাটাস-এর পদক হয়ে পড়েছে।

রইলো কথা কাজের-ভাষার তো প্রশ্ন এই যে সরকারগুলো, বিশেষ করে কেন্দ্র সরকার এই.ৰিশাল_জনতার.সাথে অপনত্ব কীকরে সৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে। একটি পুরানো উপায় -এই.ষে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা কে জাতীয় স্তরে একমেব স্থানীয় সরকারি ভাষা হিসেবে_ঘোষিত.করা যায়। এমনিতে তো ভারতে “সরকারি ভাষা" (দার্শনিক চর্চায় অথবা জাতীয়তাবাদী প্রসঙ্গে “রাষ্ট্রভাষা” অর্থাৎ জাতীয় ভাষা) -র ধারণা বিদেশ থেকে পাওয়া হলো, কিন্তু ভারতীয় প্রসঙ্গে “সরকারি ভাষা’ (দার্শনিক চর্চায় অথবা জাতীয়তাবাদী প্রসঙ্গে ‘রাষ্ট্রভাষা’ অর্থাৎ জাতীয় ভাষা) -র ধারণা একটি যোগাযোগের ভাষারূপে করা হয়েছিলো নাকি কাজের একমেব ভাষারূপে। এই ধারণায় ভারত, ইথিয়োপিয়া, পাকিস্তান, আধুনিক

রুশীয় মহাসজ্ঘ ইন্দোনেশিয়া সমতলীয়। কিন্তু দেখার বিষয়, একে তো কংগ্রেস সরকারি ভাষার মোদ্দায় গান্ধীজীর পরামর্শকে ত্যাজে অন্যদিকে বিভাজনজন্য ক্রোধজ্বালা থেকে উৎপন্ন হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ উফানে ওঠে। ভালো এই যে এখানকার জনসাধারণের মধ্যে 'বৈচিত্র্যে সৌহার্ৰ্যে একতা"-র মূল্যবোধগুলো পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যান্য দেশ এই মামলায় পিছে থাকতে দেখা যায়। অন্য দেশ ভারত.থেকে অধিক স্থির হতে পারে, কিন্তু ভারতের মতো সহিষ্ণু ভাগ্যবান নয়।

ইন্দোনেশিয়ার হাল ভারতের থেকে ভালো হতে পারে, কিন্তু আঞ্চলিক ভাষাকে মান্যতা দেওয়ানোতে ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। রুশে সোভিয়েত আমলে রুশি ভাষার দাপট ছিলো, এখন একটু কম বলা যায়। আজকের রুশে প্রত্যেক ভাষাকে আঞ্চলিক স্তরে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যদিও আজও রুশির দাপট কায়েম। কিন্তু নতুন যুগে পরিবর্তনের মশাল ধরে ইথিয়োপিয়া নেপাল--ভাষাধিকারে অগ্রণী। যদিও মাতৃভাষাধিকারের প্রসঙ্গে বুকের ছাতি পেটানেওয়ালা পূর্ববঙ্গ স্বয়ং এতেই পিছিয়ে।

ভারতের সরকারি ভাষা নীতি একটি পুরানো জামানার কাঠামোর ভিত্তিতে গঠিত। চলুন নতুন নতুন তন্ত্রের-দদেশে-কেমন্‌ কেমন নীতি গৃহীত হয়েছে এটার পর্যালোচনা করা যাক। রাজতন্ত্র পশ্চাৎ নেপালে সরকারি ভাষা মামলায় কিছু বড় গম্ভীর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যথা নেপালের সকল ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা (= জাতীয় ভাষা) হিসেবে ঘোষিত করা আঞ্চলিক-স্তরে দপ্তরি কর্মকাণ্ডে অন্যান্য ভাষার প্রয়োগ পঠন-পাঠনের অনুমতি প্রদান-করা। তবে জাতীয় স্তরে সরকারি ভাষার রূপে নেপালি ভাষাকে একপ্রকারে প্রাথমিকতা প্রদান করানো হয়েছে।

ইথিয়োপিয়ায় ১৯৯১ (উন্নিশ একানব্বই)-তে সাম্যবাদী শাসনের পতনের পরে সরকার নেপালের মতো আমহারি কে মুখ্য সরকারি ভাষা ঘোষণা করে বাকি ভাষাগুলো কে বরাবর সংবৈধানিক মান্যতা দেওয়ালো। সাথে সাথে আঞ্চলিক স্তরে অন্যান্য ভাষাকেও সরকারি ভাষার মর্যাদা প্রদান করানোরও কাজ করলো। সবেমাত্র (২০২০ - দু হাজার

কুড়িতে) ওখানকার সরকার এই আয়লান করলো যে অরঅমো, আফার, সোমালি তিগ্রিঞ্জাকে সরকারি ভাষা রূপে স্বীকৃতি দেওয়ালো। অর্থাৎ এখন মোট পাঁচটি ভাষা। ইথিয়োপিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবি আহমদ আলি বললেন:

আমহারির একটি বড়ো ভুমিকা এই যে এটি অনেক বছর ধরে ইথিয়োপীয় সমাজের যোগাযোগের ভাষা হয়ে রয়েছে বিভিন্ন লোকেদের মধ্যে সংবাদ সম্প্রেষণ সহজ করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এমন সমাজের গঠনের জন্যে যেটা রাজনৈতিক আর্থিকভাবে সমন্বিত হোক, নতুন ভাষাদেরকে সম্মিলিত করা জরুরি. এই নতুন ভাষাগ্তলো দেশকে জোড়াতে ইথিয়োপীয় লোকেদের মাঝে সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করবে।

বলা হয় যে ইথিয়োপিয়ায় এক্যের নামে.ভাষা চাপানোর অভিযান চালানো হয়েছে। এই কথাটি ঠিক যে আমহারি ভাষা সবচেয়ে জনপ্রিয়-কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভাষিত মাতৃভাষা অরঅমো ভাষা অনেক সময় ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

নেপাল আর ইথিয়োপিয়ার উদাহরণ অনেক আকর্ষক লাগলো। আমি কিছু কারণে সিংহপুর দেশের বিবরণ দিতে চাইছি না, অন্য সময় নিয়ে আলোচনা করবো

ভারত প্রভৃতি বহুভাষিক দেশের জন্যে যত জরুরি একটি সম্পর্ক ভাষা তার চেয়ে অধিক জরুরি. মাতৃভাষায়.সেবা পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক প্রসঙ্গে প্রত্যেক পৃষ্ঠভূমিতে এই কথাটির-সত্যতা স্থাপিত। ভারতের প্রসঙ্গে যদি কিছু করার দরকার পড়ে তো আমার কিছু সুপারিশ.কাজে আসতে পারে। সেইগুলোকে নিম্নপ্রদত্ত বিন্দুগুলোতে স্পষ্ট করবার চেষ্টা করবো।

১। রাষ্ট্রভাষা দ্বন্দ নিরসন হেতু সমস্ত ভাষাগুলোকে এক সাথে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা, যাতে রাষ্ট্রভাষা আছে কি না এই ঝামেলাটার সমাপ্তি দ্রুত ঘটে।

২। ভাষাগুলোর চার বর্গীকরণ করা হোক।

৩। এই চার বর্গীকরণে প্রথম বর্গ স্থানীয় যোগাযোগ ভাষাগুলোর হবে। এতে হিন্দিই (= হিন্দুস্তানিই) নয়, নাগপুরি/সাদরি, অসমীয়া, উড়িয়া, ছত্রিশগড়ি, পঞ্চপরগনিয়া, নেপালি, বাংলা ইত্যাদি বহুসাংস্কৃতিক যোগাযোগ ভাষা অন্তর্ভূক্ত করা হবে। যে এলাকায় নিজস্ব একটি যোগাযোগের ভাষা থাকবে সেখানে হিন্দির চাপ ঘটানো হবে। অন্যদিকে যেখানে কোনও যোগাযোগের ভাষা তৈরি হতে পারেনি অথবা কোনও নতুন্‌.যোগাযোগের ভাষা পেতে আগ্রহী সেখানে হিন্দি (হিন্দুস্তানি) অথবা কোনও অন্য যোগাযোগের ভাষার চয়নের ব্যবস্থা করা হোক।

৪। দ্বিতীয় বর্ণে সকল ক্লাসিকীয় ভাষাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংস্কৃত, তামিল, মলয়ালম, কন্নড়, উড়িয়া, বর্তমানে ক্লাসিকীয়। তাই এদেরকে এই বর্ণে রাখা হবে।

€। তৃতীয় বর্গ এমনসব ভাষাগুলোর. হবে যাদেরকে যোগাযোগের ভাষার মর্যাদা হাসিল নয়, যথা, ব্ৰজ, ওঁধি, কাশ্মিরি, গুজরাতি, ভোজপুরি,সৌরাস্ত্রী, কোঁকণি, সরগুজিয়া, তুলু ইত্যাদি।

৬। চতুর্থ হবে আদিবাসি; ত্ফসিলি জাতি, বর্গবিশেষের ভাষা, যথা সাঁওতালি, কুড়ুখ, বর্গ।

৭। সব/কেন্দ্র, সরকারের কীজকর্ম সুযোগ সুবিধা সকল ভাষায় সম্ভব হতে পারবে। এতে অসংখ্য চাকরি সৃষ্টি করানো যেতে পারে। বিভিন্ন বিশিষ্ট পদ যেমন তরজমাকার, মুদ্ৰক, ভাষাজ্ঞ ইত্যাদি হতে পারে।

৮। প্রত্যেক প্রদেশে প্রত্যেক স্থানীয় ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ানো হোক। এর চেয়ে আরও ভালো হয় যদি রাজ্যগুলোর নামকরণ ভাষার ভিত্তিতে না হয়ে সংখ্যা বা অন্য ভিত্তিতে হয়।

৯। কিছু দক্ষিণের লোকেরা বলেন যে ‘আমরা যদি হিন্দি কে গৃহীত করলাম তাহলে হিন্দি’ প্রদেশগুলো আমাদের ভাষাকে গৃহীত করবে?’ কেননা একেই একটি সুজগে পরিণত করি? তাহলে রাজস্থানে আমরা মলয়ালম, পশ্চিমবাংলায় তেলুগু মহারাষ্ট্রে তামিলে কাজ করাই, এরথেকে আরও চাকরি সৃষ্টি হবে আর ইংরাজি থেকে অনায়াসে বোঝা সরে যাবে।

১০। নেপালের আদলে বহুভাষিক শিক্ষণতন্ত্র ভারতে গৃহীত করা হৌক। সুবিধার জন্যে উত্তর প্রদেশের মতো একটি কিযুৎ আর কোড সহায়িত. প্রণালী কার্যকরী হওয়া সম্ভব। নবভারত টাইম্স-এর মোতাবেক - “তাধিকারিকরা জানালেন যে উত্তর প্রদেশে শিক্ষকদেরকে এক প্রান্ত থেকে আরেক এাভে ॥নিযুক্ত করা হয়। যেমন মেরঠের শিক্ষক কে গোরখপুরে মোতায়ন করা হয়। এমন সময় তাঁদের পড়ানোতে সমস্যা সৃষ্টি না হোক সেইজন্য হিন্দি পাঠাপৃত্তকের সামহীকেই স্থানীয় ভাষায় (তরজমা) করা হয়েছে বইগুলোর সামী একই রাখা হয়েছে। শিক্ষণে সহায়তা করার জন্যে বইগুলোর মধ্যে একটি একটি বিশেষ-সৃবিধেও ত্াাছে॥যে শিক্ষক হানীয় ভাষার সাথে অপরিচিততা বোধ করেন সে প্রত্যেক পাঠের জন্য একটি কিছু আর, কোড ক্যান করতে পারেন। কোড ক্যান করতেই .গাঠাসামহীর অডিও চলতে লাগবে যাতে বাচ্চারা সেটাকে সহজেই শুনতে বুঝতে পারবে”

একটি অন্য ব্যাপারে আমি কিছু কথা বলতে চাই। আমি এটা তো বলছি না যে সংস্কৃতের শব্দসমূহকৈ পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহার না করা হোক। আমি সংস্কৃতায়নের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু কাজের ভাষায় ইংরেজি ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে এটাই পার্থক্য যে ইংরেজিতে তাও সামান্য শব্দ চয়নের একটি নির্ধারিত সীমা আছে, কিন্তু আমাদের ভাষাগুলোর কার্যালয়ীন স্বরূপ এতটাই ভয়াবহ যে এর তুলনা যদি শশি তরূরের ইংরেজির সাথে নাই করা হয় তাহলে এটা অনুচিতই নয় বরং অন্যায়ও হবে। কটু লাগতে পারে, কিন্তু সত্য এটাই যে ভাষার তরূরত্ত্ব ভাষার প্রচার প্রসারে ব্যাঘাত সৃষ্টি

করছে। এই কথাটিকে উপেক্ষিত করা পাপের সমতুল্য আমি একটি পূর্ববঙ্গীয় বাংলা প্রোগ্রামে একটি জিনিশ দেখছিলাম। সেখানে বলা হচ্ছিলো যে সঙ্থ্যাঘটিতভাবে (ডিজিট্যালভাবে) ফর্ম কীকরে ভরা হয়। লেখা ছিল “সংরক্ষণ করে অগ্রসর হউন’ আরে দাদা যে কথা কে “বাঁচিয়ে এগোন’ বলেও বোঝানো যেতো সেটাকে এমন প্যাঁচানো- ঘোরানোভাবে বলার কী প্রয়োজন?

তাই আমার খেয়াল এটাই যে ভাষীয় স্বাধীনতা কে এক স্তর উঁচু রাখতে কোনও সমস্যা নাই। সে আলাদা কথা কে ভাষাগুলোর উপেক্ষাকারী ও-ভাষীয় বিতর্ক ও. ঝগড়াকারী ঘটবে না, কিন্তু এদের পরোয়া না করাতেই বিশ্বের. মঙ্গল।

হীতি